বেদ ভাষ্য নিয়ে নব্য সংগঠন ‘বাংলাদেশ অগ্নিবীর’ এর মিথ্যাচারের জবাব

বেদ ভাষ্য নিয়ে নব্য সংগঠন ‘বাংলাদেশ অগ্নিবীর’ এর মিথ্যাচারের জবাব ❗( পর্ব-১)
–—————————————
মিথ্যাচার-১ঃ
অগ্নিবীরের দাবী, বেদের মধ্ব পরম্পরার কোন ভাষ্য নেই। বেদের বৈষ্ণব ভাষ্যের কোন অস্তিত্ব নেই। যারা তা দাবী করে তারা নাকি কখনো বেদই পড়ে নি!?😂😂😂
–—————————————
মিথ্যাচারের জবাবঃ
কথায় বলে, ‘মূ’র্খ যে-ই মাত্র মুখ খুলে, তখনই তার মূর্খতামি ধরা পড়ে!’ বাস্তবে অগ্নিবীর নামক নব্য স*ন্ত্রাসী সংগঠন যে নিজেরা কত বড় চাপাবাজ ও অজ্ঞ সেটা তাদের এরূপ মন্তব্য দেখে যেকোন শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তি অট্টহাসিতে ফেটে পড়বে। যারা বৈদিক শাস্ত্রচর্চা করেন সে সব গবেষকগণের নিকট মধ্ব পরম্পরার ভাষ্য অতি সমাদৃত।
আসুন বেদের মধ্ব সম্প্রদায়ের বৈষ্ণবীয় ভাষ্যগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
১) মধ্ব সম্প্রদায়ের প্রধান আচার্য শ্রী মধ্বাচার্য্য স্বয়ং ঋকবেদের প্রধান প্রধান ৪০টি সুক্ত ভাষ্য করেছেন এবং চার বেদ সংহিতা, বেদের ব্রাহ্মণভাগ ও বেদের আরণ্যকের অন্তর্গত প্রধান ১০ টি উপনিষদের বিস্তারিত ভাষ্য প্রণয়ন করেছেন। এছাড়াও তিনি তাঁর ‘মহাভারত তাৎপর্য নির্ণয়’ নামক মহাভারত ভাষ্যেও বেদের বহু সুক্তের ব্যবহার করেছেন, ব্যাখা করেছেন।
২) মধ্ব বৈদিক পরম্পরার আরেক অন্যতম আচার্য শ্রী জয়তীর্থ নিজেও ঋকবেদের অতি গুরুত্বপূর্ণ ৪০ টি সুক্তের ভাষ্য প্রণয়ন করেছেন।
৩) মধ্ব সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান আচার্য শ্রী রাঘবেন্দ্র তীর্থ সম্পূর্ণ ঋকবেদ, সামবেদ ও যজুর্বেদের ভাষ্য করেছেন। তাঁর বেদ ভাষ্য খুবই সমাদৃত ও বহুল পঠিত।
৪) মধ্ব পরম্পরায় আচার্য শ্রী রাঘবেন্দ্র তীর্থের পরে আচার্য শ্রী ধীরেন্দ্র তীর্থ ( যাঁকে অনেকে ‘জয়রামাচার্য’ নামে চিনে) সম্পূর্ণ যজুর্বেদের ভাষ্য করেছেন।
মধ্ব সম্প্রদায়ের সমস্ত বেদভাষ্য-ই সংস্কৃত, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় পাওয়া যায় এবং সমস্ত ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পড়ানো হয়।
অতএব দেখা গেলো, মধ্ব সম্প্রদায়ের সম্পূর্ণ বেদ সংহিতারই ভাষ্য বিদ্যমান ও সর্বাধিক পরিচিত বেদভাষ্যগুলোর অন্যতম।
শুধু মধ্ব পরম্পরাই নয়, শ্রী সম্প্রদায়েরও বেদের সংহিতা ভাগের প্রধান প্রধান সুক্তসমূহের নিজস্ব ভাষ্য ও প্রধান ১০ টি উপনিষদের উপর ভাষ্যও আছে। গীতাপ্রেস, বঙ্কেটেশ্বর প্রেস সহ সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রেস সমূহ শ্রীভাষ্যের সহায়তা নিয়ে উপনিষদ ছাপিয়েছে। নিম্বাক সম্প্রদায়েরও প্রধান ১০ উপনিষদের ভাষ্য ও নিজস্ব বেদ ভাষ্য বিদ্যমান।
উল্লেখ্য, দয়ানন্দী আর্য সমাজের কিন্তু বেদের অন্তর্গত উপনিষদগুলোর ভাষ্য নেই। তাই তাদের ঘুরে ফিরে বেদের অন্যান্য ভাষ্যগুলোরই শরণাপন্ন হতে যায়। বিধর্মীদের কাছে দয়ানন্দী আর্য সমাজী মহেন্দ্র পাল আর্য যখন সনাতনী সমাজের মুখ ডুবিয়ে এসেছিল, তখন বৃহদারণ্যক উপনিষদে উল্লেখিত ‘বৃষভক’ শব্দের অর্থ গোমাংসের বদলে ‘ওষুধি’ হিসেবে ব্যাখা নেওয়ার জন্য অগ্নিবীরকে গীতাপ্রেসের বৃহদারণ্যক উপনিষদের সাহায্য নিতে হয়েছিলো। মজার ব্যাপার হলো, গীতাপ্রেস প্রকাশনি যে বৃহদারণ্যক উপনিষদ ছাপিয়েছে তা বৈষ্ণবীয় ভাষ্য ছিলো। সে ভাষ্যটি রঙ্গরামানুজ ভাষ্য। বেদের একমাত্র বৈষ্ণবীয় শ্রীভাষ্যেই সর্বপ্রথম ‘বৃষভক’ শব্দের অর্থ ঔষধি হিসেবে ব্যাখা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও শ্রী সম্প্রদায়ের বীররাঘবাচার্য্য ও বিষ্বকসেনাচার্য্যও তাদের বৃহদারণ্যক ভাষ্যে ‘বৃষভক’ শব্দের অর্থ ঔষুধি লিখেছে। অন্যান্য বেদভাষ্যগুলো উক্ত বৃষভক শব্দের অর্থ গোমাংস হিসেবে চালিয়ে বেদার্থের ভরাডুরি করেছিলো যা বৈষ্ণব আচার্যগণ শুধরে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, বেদের বৈষ্ণব ভাষ্যসমূহই সর্বজন স্বীকৃত, সর্বজন মান্য ও ত্রুটিমুক্ত।
পরিশেষে এটি পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে, অগ্নিবীরের দাবী অনুসারে বেদের বৈষ্ণবীয় ভাষ্য কিংবা মধ্ব ভাষ্য বলতে কিছু নেই- এ কথা ডাহা মিথ্যা ও শাস্ত্রজ্ঞ পাঠকের ব্রেন ওয়াশ করার একটি প্রক্রিয়া, যা নব্য জ*ঙ্গী সংগঠন অগ্নিবীরের নিয়মিত কাজগুলোর একটি।
–—————————————
মিথ্যাচার-২:
একমাত্র আর্য সমাজী দয়ানন্দের বা বাংলাদেশ অগ্নিবীরের বেদভাষ্যই গ্রহণযোগ্য। ভারতের সর্বত্র নাকি বাংলাদেশ অগ্নিবীরের ছাপানো বেদ পড়ে?!🤣😂
–—————————————
মিথ্যাচারের জবাব-
বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ‘আমারটাই সেরা, বাকিগুলো ভেড়া’ 😃 দেশী জ*ঙ্গী সংগঠন বাংলাদেশ অগ্নিবীরের অবস্থাটাও সেরকম। যার বেদভাষ্য নিয়ে এরা এতো চাপাবাজি করছে, সে আর্য সম্প্রদায়ের গডফাদার ‘দয়ানন্দ সরস্বতী’-র জন্মই হয়েছে ১৮০০ সালের পরে। অথচ বেদের বৈষ্ণবীয় ভাষ্য, অদ্বৈতভাষ্য ও অন্যান্য অনেক ভাষ্য শত শত এমনকি হাজার বছরেরও অতীত। জানলে আরো আশ্চর্য হবেন, মাত্র ২০০ বছর আগে জন্ম নেওয়া এ দয়ানন্দ গুরুর নিকট সম্পূর্ণ চার বেদও শিক্ষা করে নি। তিনি নিজেও বেদের অদ্বৈত ভাষ্য পড়েছেন বাল্যকালে। সংস্কৃতে প্রচন্ড কাঁচা ছিলেন তিনি, তাই কেবল যজুর্বেদই পড়তে পড়তে পড়ালেখার প্রতি তার আগ্রহ উঠে যায়। অপর ৩ বেদ সংহিতা তাই গুরুর সান্নিগ্ধ্যে পড়ে উঠা হয় নি তার। এমনকি একদিন তার মা শিবমন্দিরে পূজা দিতে গেলে তার ‘মা’ যে একজন ব্যা*শ্যা ছিলেন সেটা স্বীকার করে গৃহ ত্যাগ করেছেন তিনি। এরপর মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে সিদ্ধি গাঁ*জা সেবন শুরু করেন তিনি এবং জীবনের শেষ অবধি তিনি মাদক সেবন করতেন। পবিত্র বেদেই যেখানে সমস্ত প্রকার মাদক সেবন নিষিদ্ধ করেছে, সেখানে দয়ানন্দ গাঁজা সেবন করে করে বেদের কয়েকটি মন্ত্র ভাষ্য করেছে। গডফাদার দয়ানন্দের ছবি দিয়ে জ*ঙ্গি সংগঠন অগ্নিবীর সামবেদ ভাষ্য নামের চ*টি বই ছাপালেও প্রকৃত সত্য হলো- গডফাদার দয়ানন্দ জীবনে কখনো সামবেদের ভাষ্যই করে নি। গডফাদার দয়ানন্দ কেবল ঋকবেদের ৭।৬১।২ নং মন্ত্র পর্যন্ত ভাষ্য ও কেবল শুক্ল যজুর্বেদের ভাষ্য করেছেন, তিনি কৃষ্ণযজুর্বেদকেও অস্বীকার করেছেন। এসব ভাষ্যকে অধিকাংশ পন্ডিত কদার্থ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। নব্য জ*ঙ্গী সংগঠন অগ্নিবীরও লোকলজ্জায় পড়ে দয়ানন্দের অ*সভ্য ভাষার ভাষ্যকে পর্যন্ত ইডিট করে করে কোন রকমে যজুর্বেদের প্রচার চালাচ্ছে অনলাইনে।
তাও এ জ*ঙ্গি সংগঠন তাদের অসুরপিতা দয়ানন্দের ideology ফলো করে জি*হাদী ও যবন সংস্কৃতি ঢুকিয়ে দেওয়ার পায়তারা করছে। তারা প্রকাশে সনাতনীদের বিগ্রহ পূজার বিরোধীতা করছে, শিব লিঙ্গের পূজাকে পুরুষাঙ্গের পূজা বলে অপব্যাখা চালাচ্ছে, দেব দেবীদের নিন্দা, সাধু সন্তদের গালিগালাজ করছে৷, গলার থেকে তুলসীমালা কেড়ে নিচ্ছে, শ্রীমদ্ভগবদগীতাকে প্রক্ষিপ্ত বলে উড়িয়ে দিচ্ছে এবং শাস্ত্রে অজ্ঞ সাধারণ পাবলিকের ব্রেইন ওয়াশ করে এদের সনাতনী কালচার থেকে দূরে সরিয়ে পরিপূর্ণ যবনে পরিণত করছে। কিন্তু শাস্ত্র পড়ুয়া বর্তমান জেনারেশান ভালো মন্দের স্পষ্ট পার্থক্য বুঝে। জ*ঙ্গী অগ্নিবীর মত কংস, শিশুপালের দল আগেও ছিলো, বর্তমানেও আছে। কিন্তু এ সমস্ত অসুর যুগ যুগ ধরে রাস্তায় নেমে মাইক নিয়ে পাড়া মহল্লায় কৃষ্ণপূজা, দূর্গাপূজা, শিবপূজার বিরোধীতা করে গেলেও ধর্মপ্রাণ সনাতনী সমাজ ঠিকই তাদের কৃষ্ণপূজা, শিবপূজা, কালীপূজা চালিয়ে যাবে। উলটো কৃষ্ণ যেমন চক্র দ্বারা কৃষ্ণপূজা বিরোধী ও ধর্মবিদ্বেষী শিশুপালের গলা ক*র্তন করেছিলো, জাগ্রত সনাতনী সমাজও ঠিক এদের একই ভাবে ভূপাতিত করছে।
যজুর্বেদের ২ ভাগ- শুক্ল যজুর্বেদ ও কৃষ্ণযজুর্বেদ। বেদের সমস্ত গবেষক সমাজ ও পন্ডিতগণ কৃষ্ণযজুর্বেদকে মূল বেদ সংহিতার অংশ মানলেও দয়ানন্দ পন্থী আর্য সমাজ কৃষ্ণযজুর্বেদকে মানে না!😂 তাই সমস্ত গবেষক ও পন্ডিত মহল তাদের মান্যতা দেয় না। কিন্তু হাস্যপ্রদ ব্যাপার হলো, এ আর্য সমাজীরাই বিপদে পড়লে আবার কঠোপনিষদ, শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ ও তৈত্তিরীয়োপনিষদের রেফারেন্স ব্যবহার করে, যেগুলো কিনা কৃষ্ণযজুর্বেদেরই অংশ। অতএব, এসব সুবিধাবাদী গোষ্ঠী কখন কি মানে সেটা নিজেরাই জানে না। যতটুকু দিয়ে তারা তাদের জি*হাদী ব্যবসা চালাতে পারবে ততটুকুই মানে, বাকিগুলো প্রক্ষিপ্ত বলে উড়িয়ে দেয়।
গবেষক মহলে ও কোন প্রসিদ্ধ ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যাপীঠ ও গুরুকূল গুলোতে আর্য সমাজী বেদ ভাষ্য তথা দয়ানন্দী ভাষ্য পড়ানো হয় না। কেবল কতিপয় আর্য সমাজীই সেগুলো পড়ে। নিম্নে কয়েকটি এনালাইসিস দেখানো হলো-
১। মহাঋষি মহেশ যোগী বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয়
বেদভিত্তিক স্নাতকোত্তর শিক্ষায় বেদ ও যজ্ঞানুষ্ঠানের আচার্য উপাধির জন্য দুই বছরের পাঠক্রম আছে। বেদের আচার্য পাঠক্রমের প্রথম বর্ষের প্রথম পত্রে মহীধর ভাষ্য সহ শুক্লযজুর্বেদের মাধ্যন্দিন সংহিতার ১৬ থেকে ২৬-তম অধ্যায় পাঠ্য। চতুর্থ পত্রে #মহীধর_ভাষ্য সহ শুক্লযজুর্বেদের মাধ্যন্দিন সংহিতার ২৭ থেকে ২৯-তম অধ্যায় পাঠ্য। এছাড়া এই পত্রেই #সায়ণাচার্যের ঋগ্বেদভাষ্যভূমিকা পাঠ্য আছে। দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম পত্রে মহীধর ভাষ্য সহ শুক্লযজুর্বেদের মাধ্যন্দিন সংহিতার ৩০ থেকে ৪০-তম অধ্যায় পাঠ্য।
বেদের যজ্ঞানুষ্ঠানের আচার্য পাঠক্রমের প্রথম বর্ষের প্রথম পত্রে #মহীধর_ভাষ্য#উব্বট _ভাষ্য সহ শুক্লযজুর্বেদের মাধ্যন্দিন সংহিতার ১ থেকে ২৫-তম অধ্যায় পাঠ্য। দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম পত্রে #মহীধর#উব্বট_ভাষ্য সহ শুক্লযজুর্বেদের মাধ্যন্দিন সংহিতার ২৬ থেকে ৪০-তম অধ্যায় পাঠ্য।
এছাড়াও একাধিক পত্রে সভাষ্য প্রাতিশাখ্য ও গৃহ্যসূত্র পাঠ্য রয়েছে। কোথাও আর্যসমাজের কোন ভাষ্য পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত নয়।
২। শ্রী বেঙ্কটেশ্বর বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম আন্তর্জালে উপলব্ধ নয়। তবে পাঠক্রমে ঋগ্বেদ, সামবেদ, কৃষ্ণযজুর্বেদ, শুক্লযজুর্বেদ ও অথর্ববেদের আলাদা বিভাগ দেখে যৌক্তিক অনুমান যে এখানেও আর্যসমাজের মত গ্রহণীয় নয়। আর্যসমাজ আদৌ কৃষ্ণযজুর্বেদকে ঈশ্বরীয় মানে না।
৩। মহাঋষি বেদব্যাস আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয় বেদের উপরে স্নাতকোত্তর স্তরের পাঠ্যক্রম আছে। ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ, শুক্লযজুর্বেদের উপরে আলাদা আলাদা পাঠ্যক্রম। এখানে যজুর্বেদ বলতে সম্ভবতঃ কৃষ্ণযজুর্বেদকে বোঝানো হয়েছে। কোন পাঠ্যসূচি পাওয়া যায়নি, তবে যজুর্বেদের দুই শাখাকে মান্যতা দেওয়া থেকে স্পষ্ট যে এখানেও আর্যসমাজের মত মানা হয় না।
৪। জগদ্গুরু রামানন্দাচার্য রাজস্থান সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় এখানেও পরম্পরাবাদী ভাষ্যই অনুসৃত হয়। এখানে বেদের বৈষ্ণবীয় #শ্রীভাষ্য অনুসৃত হয়।
৫। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বর্ষে #সায়ণভাষ্য সহ ঋগ্বেদ, সামবেদ, শুক্লযজুর্বেদ ও অথর্ববেদের কিয়দংশ পাঠ্য।
৬। মহর্ষি সান্দীপনি রাষ্ট্রীয় বেদবিদ্যা প্রতিষ্ঠান
এর অধীনে #সায়ণভাষ্য অনুসারেই বেদ পড়ানো হয়।
৭। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় এর সংস্কৃত স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রমে দ্বিতীয় সেমেস্টারের পঞ্চম পত্রে #সায়ণাচার্যের ঋগ্বেদভাষ্যভূমিকা পাঠ্যসূচিতে আছে। এছাড়াও পাশ্চাত্যের বৈদিক পণ্ডিতদের কথাও (ম্যাক্সমূলার, ম্যাকডোনেল, ওয়েবার, ব্লুমফিল্ড, হুইটনি, উইলসন, গ্রিফিথ, উইন্টারনিটজ, কিথ ও রথ) পাঠ্যসূচিতে আছে। গোটা পাঠ্যসূচিতে এছাড়া কোথাও দয়ানন্দের উল্লেখ নেই।
এখন প্রশ্ন হতে পারে, যে দয়ানন্দ ও অন্যান্য সমাজীভাষ্য কোথায় পড়ানো হয় বা আদৌ পড়ানো হয় কি? আর্যসমাজ পরিচালিত গুরুকুল কাংড়ী বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ওয়েবসাইটে বলছে যে, ‘একমাত্র তাদের গুরুকূলেই দয়ানন্দ ভাষ্য অনুসরণ করে বেদ পড়ানো হয়।’ অর্থাৎ সমাজী মতেই স্বীকৃত হচ্ছে যে দয়ানন্দ ও সমাজীদের অপভাষ্য সমাজী বাদে কেউই মানে না।
অগ্নিবীর দাবী করেছে, ‘ভারতের বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেমন- দিল্লি, কুরুক্ষেত্র, আজমের, রোহতক, জম্মু, হিমাচল প্রদেশ সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্মানীয় অধ্যাপকগণ বাংলাদেশ অগ্নিবীরের উপদেষ্টা এবং তারা নাকি ‘বাংলাদেশ অগ্নিবীর’ ও আর্য সমাজী বেদভাষ্যই পড়ে।’ 😂😂🤣🤣
লোল!!!! এসব ঢাহা মিথ্যাচার। ওই সমস্ত অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোথাও ‘বাংলাদেশ অগ্নিবীর’ কিংবা আর্য সমাজী কোন বেদ ভাষ্যই কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে পর্যন্ত নেই, পড়ানো তো দূরে থাক। এরা দু একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কিছু উপঢৌকন পাঠিয়ে বলেছে তারা একটা বেদ ভাষ্য ছাপাতে চাইছে যেটা কিনা ১০-১২ টা বেদ ভাষ্য এনালাইসিস করে করা হবে। সেটা শুনেই সে সব শিক্ষকেরা শুভ কামনা জানিয়েছেন। ও সমস্ত শুভ কামনা দেখিয়ে তারা দাবী করে বসে এরা নাকি অগ্নিবীরের উপদেষ্টা!
শুভ কামনাকারী আর উপদেষ্টা একই জিনিস?! 😂 ওসব অবাঙ্গালী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বয়ে গেছে বাংলাদেশ অগ্নিবীরের বাংলায় ছাপানো সামবেদের কদার্থ পড়তে বসে বসে। ইনারা কেউই ওই বেদ উলটে পর্যন্ত পড়ে নি। আরো হাস্যপ্রদ হলো, বাংলাদেশ অগ্নিবীরের বের করা সামবেদ যারা প্রণয়ন করেছে তারা কেউই কখনো কোন গুরুকূলে বেদ শিক্ষাই লাভ করে নি, এদের কয়েকজন এখনো প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখাই কমপ্লিট করে নি! ফেসবুকে মো*ল্লাদের সাথে পার্টিতে এদের দিব্বি আপলোড করা ছবি দেখা যায়, এদের না আছে কোন উপনয়ন, না আছে কোন আহার বিহারের বাছ বিচার। মুখে বলছে, বেদে মাংসাহার নিষিদ্ধ কিন্তু নিজেরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ক্যান্টিনে বসে মুরগির পায়ার হাড্ডি চিবায়!😂😂
অগ্নিবীর ভেবেছিলো পাবলিকের ব্রেনওয়াশ করে ইসলামীয় আইডিলোডি সমৃদ্ধ ‘সামবেদ’ বিক্রি করে এরা বিপুল পরিমান প্রোফিট করবে। কিন্তু ইঁদুর কপালে এ অগ্নিবীরের সামবেদভাষ্য ৫০০ কপিও বিক্রি হয় নি। যা ইনভেস্ট এরা করেছিলো শেষ পর্যন্ত সে টাকাটা পর্যন্ত তুলে আনতে পারে নি। তাই শেষ মেশ বাধ্য হয়েছে সামবেদ ছাপানো। এখন কেবল প্রি অর্ডার দিয়ে পেমেন্ট করলেই তারা ছাপিয়ে সাপ্লাই দেয়!! কি দুরাবস্থা!😂🤣
নিজেদের ছাপানো যে অল্প কিছু সামবেদ তারা বিক্রি কিরেছে তা কিনেছে খালি কতিপয় এদের দ্বারা ব্রেন ওয়াশ হওয়া এদেরই কিছু আবেগী গ্রুপ মেম্বার ও মাদ্রাসার মো*ল্লারা। যে গুটি কয়েক আবেগী ব্রেন ওয়াশ হওয়া ছেলেপিলে ওসব বই কিনেছে, তারাও সে চটি নিয়ে ফটোশুট করে সে ছবি অগ্নিবীরের ফেসবুক গ্রুপে আপলোডের পর সে চ*টি বইগুলো ঘরের এক কোণে মাকড়ার ঝালে ফেলে দিয়েছে। আর অন্য দিকে মো*ল্লারা অগ্নিবীরের সামবেদ দেখিয়ে সাধারণ হিন্দুদের ব্রেন ওয়াশ করছে, বেদে নাকি ভগবানের বিগ্রহ পূজার বিধান নেই!! অথচ বেদের মধ্ব ভাষ্য, শ্রী ভাষ্য, সায়ান ভাষ্য, মহীপাল ভাষ্য, রাবণ ভাষ্য সবকটিতেই বেদে ভগবানের বিগ্রহ তথা মূর্তি পূজার উল্লেখ আছে, নেই কেবল জি*হাদী যবন মতাদর্শী অগ্নিবীরের বেদভাষ্যে!!
অতএব, সাধু সাবধান এ সব ভন্ডাচারী অগ্নিবীর নামক স*ন্ত্রাসী সংগঠনের হাত থেকে।
( পরবর্তী পর্বগুলোতে আমরা দেখবো বেদের মধ্ব পরম্পরার আচার্যগণ তাদের বেদ ভাষ্য কোথায় কোথায় শ্রীনৃসিংহদেবের উল্লেখ করেছেন এবং মধ্ব পরম্পরার বাইরেও বেদের অদ্বৈতভাষ্য ও শ্রীভাষ্য সহ অন্যান্য ভাষ্য সমূহের কোথায় কোথায় ভাষ্যকারগণ নৃসিংহদেবের বর্ণনা করেছেন।)
হরে কৃষ্ণ 🙏
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments